Friday, May 3, 2019

ডায়াবেটিস নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা ও তার সত্যতা বিচার - diabetes myths and facts

ডায়াবেটিস নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা ও তার সত্যতা বিচার

Diabetes myths and facts

ডায়াবেটিস নিয়ে প্রচলিত আছে অনেক ভুল ধারণা আর ভুল উপাদেয়।

ভুল ধারণা :



diabetes_Rules_and_Tips_Secreative

দিদিমা ঠাকুমা অনেকেই ডায়াবেটিস নিয়ে আমাদের সারাদিন অনেক জ্ঞান দিয়ে থাকে যেমন অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয় কিন্তু সত্যি করে তা নয় ।

Myth : People with diabetes can’t eat sugar

আসলে অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয় না যখন কোন কারণে শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ কমে যায় বা ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না তখন ডায়াবেটিস হয় ।


অনেকে এইভাবে একবার ডায়াবেটিস হলে কোন দিন মিষ্টি খাওয়া যাবে না কিন্তু আসলে মোট ক্যালরির পরিমাণ দেখে মাঝে মাঝে মিষ্টি খাওয়া যেতেই পারে সে ক্ষেত্রে অন্য কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য একটু কম খেতে হবে।

People with diabetes should only eat diabetic food

বিভিন্ন জনেই ধারণা যে মাটির নিচের কোন জিনিস ডায়াবেটিসে খাওয়া চলবে না রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে মাঝে মাঝে আলু খাওয়া যেতেই পারে আর গাজর প্রতিদিনই কিছু পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে তাতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয় ।
diabetes_Rules_and_Tips_Secreative_potato

 আজকাল বাজারে সুগার ফ্রি মিষ্টি খুবই প্রচলিত। তাছাড়া বিভিন্ন মানুষ চা এ সুগার ফ্রি ইউজ করে। কিন্তু সুগার ফ্রি কতটা নিরাপদ সেটা জানার জন্য আরও সমীক্ষা প্রয়োজন ।কোন ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেটা বিচার্য।

 সাধারণ সর্বিতল দৈনিক জাতীয় আর্টিফিশিয়াল সুইটনার অনেক সময় পেট খারাপের কারণ ঘটায় অতিরিক্ত সুগার ফ্রি ব্যবহারের অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে অনেকেই ভাবেন যে ডায়াবেটিস রোগীদের ভাত খাওয়া যাবে না প্রত্যেকের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছুটা শস্যজাতীয় খাবার অবশ্যই প্রয়োজন ।
diabetes_Rules_and_Tips_Secreative_Sugar_free_Harmfull

সেখানে সারাদিনে যদি একবার ভাত খাওয়া হয় ক্ষতি নেই ভাত রুটি মিলিয়ে মিশিয়ে খেলে সব থেকে ভালো। আবার অনেকে মনে করেন ভাত না খেয়ে রুটি খাওয়া অনেক ভালো সেটাও কিন্তু ঠিক না ভাত বা রুটি উভয়ই পরিমাণ মত হওয়া উচিত
Rice_Vat_is_equal_to_Ruti_Roti_diabetes_Rules_and_Tips_Secreative


ডায়াবেটিস সুগার পেশেন্ট এর জন্য দৈনিক খাদ্য অবশ্যই ব্যালেন্স হওয়া উচিত। বলা হয় স্মল ফ্রিকোয়েন্ট মিল খাওয়ার জন্য যাতে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে । প্রাতরাশ অবশ্যই বাদ দেবেন না এবং প্রার্থনা দুপুরের খাবার রাতের খাবারের মাঝে মাঝে স্ন্যাকস হিসেবে ফল খাওয়া যেতে পারে তবে কম চিনিযুক্ত ফল বেছে নেওয়াই উচিত । তবে দৈনিক খাদ্য তালিকা বানানোর জন্য কোন বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়ায় আবশ্যিক

Sunday, April 21, 2019

Pakhiralay, Purbasthali, West Bengal - Home of thousands of travelling migratory birds পাখিরালয়

পাখিরালয়

Pakhiralay, Purbasthali, West Bengal


পাখিরালয় নাম শুনেই বোঝা যায় পাখিদের আবাসস্থল । কিন্তু সব সময় এখানে পাখি দেখা যায় না। বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীতে ভাগীরথী নদীর থেকে কিছু চর তৈরী হয় শীতকালে ,যা আবার বর্ষার সময় পুরোপুরি হারিয়ে যায় ।শীতকালে এই চরেই বিভিন্ন ধরণের ঘাস ও গাছ জন্মায়।আর এই সময়ই সাইবেরিয়া ও বিভিন্ন জায়গা থেকে পাখিরা উড়ে আসে পূর্বস্থলীতে
ঘুরতে যাওয়ার জন্য খুবই মনোরম জায়গা আর ওয়াল্ড লাইফ ফটোগ্রাফারদের জন্য অত্যন্ত ভালো জায়গা । কলকাতা থেকে দূরত্ব 133 km ব্যারাকপুর,বলাগর, কালনা পথে এলে। তাছাড়া ট্রেনে হাওড়া থেকে কাটোয়া লোকালে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পূর্বস্থলী পৌঁছানো যায় ।

Pakhiraloi-Purbostholi-Forest-Secreative
Pakhiralay-Purbosthali-Forest-Secreative

যেহুতু জায়গাটি অনেক বড়ো এবং কাছে গেলে পাখি উড়ে যেতে পারে তাই bagpack এ অবশ্যই দূরবীন রাখতে হবে । আমরা অনেক দিন ধরেই যাবো ভাবছিলাম ,কিন্তু সবার একসাথে সময় হয়ে উঠছিলো না । তারপরে আমরা ডিসেম্বর এর প্রথম সপ্তাহে  পাখিরালয় গেলাম । এখানে থাকার জায়গা বলতে একটাই হোটেল পরিযায়ী আবাস
PARIJAYEE ABAS
Kasthashali Banbithi  
Post – Kasthashali, Police Station: Purbasthali
District - Burdwan
PIN – 713513
Pakhiraloy-Purbostholi-Cottage-porijayi abas-Secreative
Pakhiralay-Purbosthali-Cottage-porijayi abas-Secreative

পূর্বস্থলী স্টেশনে নেমে লোকাল রিক্সা বা টোটো তে পাখিরালয় পৌঁছতে খুব বেশী সময় লাগলো না ।
পরের দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে কুয়াশার মধ্যে বেরিয়ে পরলাম পাখি দেখতে।
Pakhiraloy-Purbostholi-Forest-Secreative
Pakhiralay-Purbastholi-Forest-Secreative

লেকের কাছে পৌঁছাতেই দেখলাম কিছু নৌকা বাঁধা ।
Pakhiralay-Purbostholi-Oxbow lake-Secreative
Pakhiralay-Purbosthali-Oxbow lake-Secreative

মাঝিরা পর্যটকদের নিয়ে ছোটো নৌকা বা খেয়া ই করে চরের আসে পাশে ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছে । কুয়াশা আস্তে আস্তে সরে যেতে লাগলো ।
Pakhiralay-Purbostholi-Nouka bihar-Secreative
Pakhiralay-Purbosthali-Nouka bihar-Secreative

Pakhiralay-Purbosthali-People-Secreative
Pakhiralay-Purbosthali-People-Secreative

Home of thousands of travelling migratory birds

আমরা গাছের আসে পাশে , জলের মাঝে রাখা বাসগুলোর ওপরে অনেক পাখি দেখলাম । রেড ক্রেস্টেড পোচার্ড , হোয়াইট ব্রয়েড ওয়াগটেল,অসপ্রে ,ব্রোঞ্জ উইনগেড জাকানা , কালো মাথা আইবিস ,বিভিন্ন ধরণের মাছরাঙা আরো অনেক নাম না জানা পাখি দেখলাম ।
Pakhiralay-Purbasthali-Black Headed Ibis -Secreative
Pakhiralay-Purbasthali-Black Headed Ibis -Secreative

Pakhiralay-Purbasthali-Kingfisher -Secreative
Pakhiralay-Purbasthali-Kingfisher -Secreative

Pakhiralay-Purbosthali-Lesser Whistling Teals -Secreative
Pakhiralay-Purbosthali-Lesser Whistling Teals -Secreative

Pakhiralay-Purbosthali-Purple Moorhen -Secreative
Pakhiralay-Purbosthali-Purple Moorhen -Secreative

Pakhiralay-Purbosthali- Red Crested Pochards -Secreative
Pakhiralay-Purbosthali- Red Crested Pochards -Secreative


সব ছবি তুলতে পারিনি কিন্তু যেতে আস্তে অনেক পাখি দেখেছি, তারপর আস্তে আস্তে রোদ বাড়লো, আমরা ফিরে আসতে লাগলাম । এসে দেখি পাখিরালয় এর সামনের মাঠটাতেই অনেকে এসে পিকনিক করছে। এই ব্যাপারটা আমার ঠিক ভালো লাগেনি কারণ এখানে Music চালানো নিষিদ্ধ হলেও লোকজনের কথাবার্তায় জায়গাটার মাধুর্য কোনো না কোনো ভাবে নষ্ট হচ্ছে ।
Pakhiraloi-Purbostholi-Picnic-Spot-Secreative

Pakhiraloi-Purbostholi-Picnic Spot-Secreative

সামনে কিছু ফুচকা,লুচি তরকারির দোকান ,আর অনেক লোকজন । যাই হোক পাখিরালয় পাখি দেখা ও ছবি তোলার জন্য খুবই ভালো জায়গা । তবে দুপুর বেলা সব পাখি দেখা যায় না ,তাই রাতে হোটেলে থেকে ভোরবেলায় পাখি দেখতে বেরোনোই ভালো ।

এছাড়া এখানে দুটি গ্রাম আছে এই ভাগীরথীর ধারে ,চুপি ও কাষ্ঠশালী ।এখানে বহু পুরোনো ঐতিহাসিক প্রাসাদ আছে । তাছাড়াও এই চুপি গ্রামে দুটি পুরোনো টেরাকোটা মন্দির আছে ।

Pakhiraloy-Purbostholi Chupi terakota temple -Secreative
Pakhiralay-Purbasthali Chupi terakota temple -Secreative

কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।


যাওয়ার আগে মনে রাখবেন

1 দূরবীন নিয়ে যাওয়া আবশ্যিক , ক্যামেরার দূরের জুম লেন্স নিতে হবে ।
2 নৌকাতে বেশি কথা বললে বা চিৎকার করলে পাখিরা লুকিয়ে যায় ।
3 জল ও আশেপাশের সমস্ত জায়গা পরিষ্কার রাখা বাঞ্চনীয় ।
4 ছাতা,টর্চ, মোমবাতি ও দেশলাই বাক্স সাথে রাখলে সুবিধা হবে ।

Tuesday, April 16, 2019

তিনদিনের ঘোরাঘুরি ,হাতের কাছেই লাটাগুড়ি - গরুমারা অভয়অরণ্য - Lataguri - Gorumara- Duars - Jalpaiguri Travel story

তিনদিনের ঘোরাঘুরি ,হাতের কাছেই লাটাগুড়ি - গরুমারা অভয়অরণ্য - Lataguri - Gorumara - Jalpaiguri Travel story



বাঙ্গালি আগাগোড়াই ভ্রমণপিপাসু । তাই ছুটি পেলেই বাঙালি ছোটে দিঘা পুরি । হাতের কাছে আরো একটা মনোরম জায়গা লাটাগুড়ি , যা ছোটো থেকে বৃদ্ধ সবার জন্যই উপযোগী ।এটি একরাত্রির ট্রেন পথে পৌঁছে যাওয়া যায় ,তবে এটা দুটিভাবে যাওয়া যায়।কামরূপ এক্সপ্রেস ধরে মালবাজার স্টেশনে নেমে গাড়ি করে লাটাগুড়ি পৌঁছানো যায় অথবা নিউ মায়নাগুড়ি স্টেশনে নেমে গাড়ি করে খুব সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে লাটাগুড়ি পৌঁছানো যায়।
Jalpaiguri - Lataguri -Road - Secreative

 লাটাগুড়ি হলো গরুমারা ন্যাশনাল পার্কে এর মাঝে অবস্থিত একটা ছোট্ট গ্রাম । লাটাগুড়ি পুরো গ্রামটাই লম্বা গাছের বোন এবং চা  বাগানে ভর্তি ।
Jalpaiguri - Lataguri -Tea Garden - Secreative

যেদিকেই তাকাই বিভিন্ন গাছে বিভিন্ন ধরণের পাখি বসে সুমধুর সুরে গান গাইছে । আমার পাখি দেখতে এবং তাদের আওয়াজ শুনতে খুব ভালো লাগে । সব পাখি identify করতে পারিনা কিন্ত রাত হয়ে যাওয়ার পরে হোটেলের রুমে শুয়ে ময়ুর,ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক ও অন্যান্য পাখির আওয়াজ শুনতে খুব ভালো লাগে ।

গরুমারা অভয়অরণ্য

তারপর গরুমারা ফরেস্টে হুড খোলা জিপে করে জঙ্গল ভ্রমণ ।
Jalpaiguri - Lataguri -Gorumara Forest- Murti River- Secreative

আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো বর্ষার সময় গরুমারা ফরেস্ট বন্ধ থাকে 15 জুন থেকে 15 সেপ্টেম্বর অবধি । শীত কাল জঙ্গল ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত , তাই ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি গরুমারা যাওয়া ভালো । জঙ্গল টি মূর্তি নদীর দুপাশে অবস্থিত । গরুমারা এক শৃঙ্গ গন্ডার জন্য বিখ্যাত ,
Jalpaiguri - Lataguri -Gorumara Forest- LAva - Lolegao - Secreative

তাছাড়াও গরুমারা ঢুকতেই চারিপাশে ময়ূর ও অনেক হরিণ দেখলাম ।
Jalpaiguri - Lataguri -Gorumara Forest -Peacock - Secreative

Jalpaiguri - Lataguri -Gorumara Forest - Secreative

তারপরে ধূলোর রাস্তাই ধূলো উড়িয়ে এগিয়ে যেতেই হটাৎ দেখি রাস্তায় একটা চিতাবাঘ এক দিক থেকে অন্য দিকে যাচ্ছে । সবাইকার বাঘ দেখার আনন্দের বহিঃপ্রকাশে বাঘটি ভয় পেয়ে জঙ্গলের ভিতরে চলে গেলো।তাই এই ফোটো টিই তুলতে পেরেছিলাম ,যাতে বাঘের দেখা স্পষ্ট নয় ।
Jalpaiguri - Lataguri -Gorumara Forest - Tiger - Secreative

আর কিছু হাতি সামনে ঘুরছিলো।

তারপরে একটা পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়ালাম যেখান থেকে গণ্ডার দেখা যায় মূর্তি নদীর পাশেই । দেখলাম একদল জলহস্তি নদী পেরিয়ে যাচ্ছিলো । আর কয়েকজন বনকর্মী হাতির পিঠে করে পশুদের নুন দিতে বেরিয়েছে । আমাদের গাইড আমাদের বললো জলহস্তিরা এই ছোট্ট ঢিবিটাই আসে নুন খেতে ।
Jalpaiguri - Lataguri -Road - Salt - Secreative

আর Hornbill নামক এই পাখিটাও এই গরুমারার বৈশিষ্ট্য, যাকে বাংলায় বলে ধনেশ ।
Jalpaiguri - Lataguri -Gorumara Forest- Hornbill - Dhanesh - Secreative

তারপর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতেই সন্ধ্যে হয়ে গেলো । ফিরে যেতে ইচ্ছা করছিলো না কিন্তু হোটেলে ফেরার আগে জিপ আমাদের নিয়ে গেলো একটা মাঠে, সেখানে সাঁওতাল দের নাচ দেখলাম মাদলের তালে আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার তীব্র আওয়াজ ।
Jalpaiguri - Lataguri -Tribal Dance - Secreative


তারপর ফিরলাম হোটেলে । সেখানেও চমক বাকি ছিলো। হোটেলের মালিক পরিচিত হওয়ায় আমাদের জন্য তৈরী ছিলো ওখানকার স্পেশাল বরেলী মাছের ঝোল আর দেশি মুরগীর ঝোল
পরের দিন ওখান থেকে রওনা দিলাম লাভা । যাওয়ার পথে রাস্তাই দেখলাম সিঁদুরে মাখা মহাকাল
Jalpaiguri - Duars - Mahakal Mandir - Lolegao - Secreative

Jalpaiguri - Duars - Mahakal Mandir - Lolegao - Secreative

এখানে নাকি রাতে হাতিরা এসে সারাদিনের সব প্রসাদ খেয়ে যায়।রাস্তায় যেখানে চা খেতে দাঁড়িয়েছিলাম সেখানে military training চলছিলো ।
Jalpaiguri - Lataguri -Lava - Lolegao - Secreative

Jalpaiguri - Lataguri -Military Training - Secreative

লাভা পৌছালাম বিকেলের দিকে। ওখানে হোটেল পাওয়া যায়না , সবই হোমষ্টে । এরকম এক হোমস্টেতে গিয়ে উঠলাম। জানলার সামনেই দেখতে পেলাম বড়ো মনস্ট্রি । ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হলো আর ঠান্ডা আরো বেড়ে গেলো।
Jalpaiguri - Lataguri -Lava - Lolegao - rain - Secreative


তাই আর কোথাও যাওয়া হলো না । পরের দিন সকালে গেলাম মনস্ট্রি তে ।
Jalpaiguri - Lataguri - Buddhha Monestry - Lolegao - Secreative

অনেকটাই হাঁটা পথ কিন্তু খুবই স্নিগ্ধ মনোরম পরিবেশ । বাচ্ছারা পড়াশোনা করছিলো আর কয়েকজন মনস্ট্রি  সাজাচ্ছিল , সামনেই কোনো অনুষ্ঠান ছিলো। ফেরার সময় হাঁটাপথ হলেও কষ্ট হয়নি। তারপর রিশপলোলেগাঁও ঘুরে পৌছালাম ডেলোতে । ডেলোর মূল আকর্ষণ হলো Skydiving , যা আমার করা হয়ে ওঠেনি।
Jalpaiguri - Lataguri - Delo BUnglow - Lolegao - Secreative

তারপর ওখান থেকে গেলাম ক্যাকটাস মিউজিয়াম, সেখানে বহু ধরণের ক্যাকটাস দেখলাম।
Jalpaiguri - Kalimpong-cactus museum -Peacock - Secreative

 ওখানে কিছুক্ষন ঘুরে তারপর এলাম সেবক । সেখানে একটি বড়ো হোটেল এবং সেখানে ট্যুরিস্ট এর ভীষণ ভীড়। সেখানেই দুপুরের খাবার খেয়ে আবার ফিরে এলাম আমাদের লাটাগুড়ির হোটেলে । পরের দিন সকালে গাড়ি করে পৌছালাম নিউ মইনাগুড়ি স্টেশনে । তারপর সেখান থেকে একেবারে বাড়ি। মাঝরাতে বাড়ি পৌছালাম। ব্যাস । আমাদের ভ্রমণ শেষ। আবার সেই রোজকার কাজকর্মে দিনযাপন।

নির্জনতার টানে নেতারহাট - Netarhat Tour - Roadtrip

নির্জনতার টানে নেতারহাট 

আমার নতুন ব্লগে সকল কে স্বাগত জানাই। এই ব্লগ টি আমার প্রথম ব্লগ লেখার প্রচেষ্টা। আশা করি কিছু ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতে ব্যাপারটাকে দেখবেন এবং কোনো পরিমার্জন প্রস্তাব থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।


হটাৎ একদিন সান্ধ্য আড্ডায় ঠিক হল সপ্তাহান্তে কাছাকাছি কোথাও বেরিয়ে এলে মন্দ হয় না। কাছাকাছি যাওয়ার মতো জায়গা কলকাতার আশেপাশে কোথায় আছে সে নিয়ে বিশেষ আলোচনা চললো । কেউ একজন বলে উঠলো নেতারহাটে যাওয়া যেতে পারে,বাকি সবাই বেশ আগ্রহ ও প্রকাশ করল। কিভাবে যাওয়া যেতে পারে দুদিন বেড়ানোর জন্য ঠিক জায়গা হবে কিনা। শেষমেশ ঠিক হলো এবার আমরা বাইক এ যাবো , দূরত্ব ও বেশী নয় মাত্র ৫৫0 কিলোমিটার, একদিনেই পৌঁছে যাওয়া যাবে। একদিন দু-রাত থেকে পরের দিন আবার কলকাতা ফেরত আসা যাবে। গুগলে সার্চ করে রাস্তার একটা ধারণা করে নিলাম কলকাতা থেকে কোলাঘাট হয়ে মেদিনীপুর ধরে সোজা জঙ্গলমহল, ওখান থেকে ঘাটশিলা হয়ে জামসেদপুর তারপর দলমা হয়ে সোজা রাঁচি বাইপাস, ওখান থেকে লোহারদাগা হয়ে একদম নেতারহাটে। অনলাইনে হোটেল ও বুক করে ফেলা হলো ।

Netarhat Tour  Travel Blog _ Secreative Forest


ঝাড়খণ্ড ট্যুরিজম এর ওয়েবসাইটে গিয়ে খুব সহজেই খুঁজে পেলাম হোটেল প্রভাত বিহার, রেটিং ও খুব ভালো দেখলাম আর খরচ ও আমাদের একদম বাজেটের মধ্যে। ৬ জনের জন্য দুটো রুম এর ভাড়া ৭২০০ ট্যাক্স সহ । আমাদের দুটো এক্স্ট্রা বেড নিতে হয়েছিল যেটা বেড প্রতি ৩০০ টাকা মতো এক্স্ট্রা চার্জ করেছিল।
Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Tourism

এবারে ব্যাগ গোছানোর পালা। বাইক যেহেতু বাহন খুব জরুরী জিনিস পত্তর ই নেয়া হলো। তিনটে বাইক ছয় জন আরোহী।শনিবার ভোর ৪ টে নাগাদ কলকাতা থেকে বেরিয়ে পড়লাম নেতারহাট এর দিকে । হাইওয়েতে বড়ো বড়ো ট্রাক গুলো কে পাস কাটিয়ে ঠাণ্ডা হাওয়া খেতে খেতে এগিয়ে চললাম। কোলাঘাট এসে প্রথম থামা হলো , হাইওয়ের ধারের ধাবা গুলো বেশ ভালো চা বানায়। শের ই পাঞ্জাব তো খুব বিখ্যাত ধাবা। চা পান করে আবার এগিয়ে চললাম হাইওয়ে ধরে।

Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Forest

সকালের আবছা আলো আর লম্বা হাইওয়ে চারপাশে শুধু সাঁ সাঁ গাড়ির আওয়াজ ।চারপাশে হালকা কুয়াশার চাদর এ মোড়া , আকাশ ফুটে লাল সূর্য আস্তে আস্তে উকি মারছে অসাধারণ অনুভূতি। যতটা সময় আমরা ভেবেছিলাম তার থেকে অনেকটা বেশি সময় লাগছিলো। জঙ্গলমহলে ঢুকলাম প্রায়  সকাল ৯.৩০ এর দিকে। উঁচু নিচু ঢেউ খেলানো রাস্তা দুপাশে সবুজ বনানী কেটে এগিয়ে চলেছে। কিছু জায়গায় রাস্তা বাড়ানোর কাজ চলছে দেখলাম। আমরা বেশ খানিকক্ষণ একটু জিরিয়ে নিলাম গাছের ছায়া আর মৃদু শীতল বাতাসে। চার পাশে মহুয়ার গন্ধ মাতাল করা এক পরিবেশ। সন্ধ্যের একটু পর পর রামপুর পৌঁছে গেলাম। তারপর রাস্তা একদম ফাঁকা । ভেবে ছিলাম রাত ১১ টার দিকে হোটেল এ পৌঁছে যাবো। লোহারদাগা পৌঁছলাম প্রায় রাত ১.৩০। এর পর শুরু হলো পাহাড়ি পথ। দু একটা শিয়াল ছাড়া কেউ কোথাও নেই। হোটেল এ পৌঁছলাম রাত ২.৩0। ফোন করে বলাই ছিল তো ঢুকতে অসুবিধা হয়নি। সবাই বেশ ক্লান্ত ছিলাম ঘুম এ চোখ বুজে আসছিল।
Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Hotel


পরদিন উঠতে একটু বেলাই হয়ে গেলো। ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিযে পড়লাম আসে পাশের পরিবেশ দেখতে। আমাদের হোটেল টা পাহাড়ের একদম ঢালে।
Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Hotel

বেশ কয়েক ধাপ উঠে তবে রাস্তায় উঠতে হয় । হোটেল থেকে বেড়িয়ে সামনে একটা পুলিশ ক্যাম্প । আইজিআই গেমে র মতো একটা উঁচু টাওয়ার ও রয়েছে। পিছনে বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে অনেক গরু চড়ে বেড়াচ্ছে। লোকজন খুব একটা নেই। পাখির আওয়াজ শুনতে শুনতে বেশ খানিকটা পথ নীচে নেমে আবার উপরে উঠে বাঁক ঘুরেই নেতারহাট বাসস্ট্যান্ড। আমরা বাসস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে পাহাড়ি পথ বেয়ে অনেকটা এগিয়ে একটা টিলা র উপর উঠে বসলাম চার পাশের মাটি শুকনো পাতার আস্তরনে ঢেকে আছে । লম্বা গাছ গুলোর ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো পড়ে জায়গাটা অসম্ভব সুন্দর করে দিয়েছিল। উঠতে ইচ্ছে করছিল না। হোটেল থেকে ফোন করে খাবার খেতে না ডাকলে আরো বেশ খানিকটা সময় থাকতাম আমরা।
Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Forest

হোটেলের সামনের খাবার জায়গাতে বসে চারপাশের পাহাড় দেখতে দেখতে খাওয়া আর বিকেল এ কোথায় যাবো সেটা নিয়েও ভেবে নেয়া হলো। এবার যাবো সানসেট পয়েন্ট এ।
Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Forest

খেয়ে উঠে একটু জিরিয়ে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সানসেট পয়েন্ট এর দিকে। কিছুটা বনের পথ পেরিয়ে খোলা মাঠের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চললাম আসে পাশে কিছু কিছু চা বাগান চোখে পড়লো । আমাদের দার্জিলিংয়ের চা গাছের মতো বেঁটে নয় একটু লম্বা। সামনে বেশ ভিড় পাশে এক বিশাল জলাভূমি, ভিড়ের কারণ এ আমরা আর দাঁড়ালাম না। দেখে লাগলো কোনো কিছুর শুটিং চলছে, নয়তো জায়গাটা বেশ সুন্দর ছিল।
Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Sunset
Add caption

সানসেট পয়েন্ট এ পৌঁছে দেখলাম সামনে পাহাড়ের সারি র নীচে গভীর বন। পালামো টাইগার রিজার্ভ এর বোর্ড ঝোলানো রয়েছে কয়েক জায়গায়।
Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Sunrise

Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Forest


Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Flower

আমরা বেশ খানিকটা এগিয়ে একটা জায়গায় গিয়ে বসলাম সামনে ছবির মতো একটা একটা পাহাড় গায়ে লেগে লেগে দাঁড়িয়ে আছে। আস্তে আস্তে সারা আকাশ লাল হয়ে এলো, এই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সূর্য এবার অস্ত যাবে।




নিস্তব্ধ পরিবেশ চার পাশে শুধু পাখির আওয়াজ। আমরা নির্বাক হয়ে দৃশ্য টা উপভোগ করতে করতে একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছিলাম । ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে আসলো বুঝতেই পারিনি। এবার হোটেল এ ফেরার পালা ।
Netarhat Tour Travel Blog _ Secreative Roadtrip

নির্জনতার টানে নেতারহাট  -Netarhat Tour - Roadtrip